২০২০-২০২১ সালকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৭:০৫:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালন করব ২০২০ সালে। ২০২০ থেকে ২০২১ সালকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আমরা স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তী পালন করব ২০২১ সালে।’

শনিবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীর নিশানবাড়িয়ায় ১৩২০ মেগাওয়ার্ড পায়রা তাপবিদুৎ কেন্দ্রে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য নির্মিত স্বপ্নের ঠিকানা নামের আবাসন পল্লী উদ্বোধনকালে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিনাঞ্চলকে ঘিরে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা আমরা হাতে নিচ্ছি। বাংলাদেশের আর কোন মানুষ গৃহহারা থাকবে না। কোন ছেলে মেয়ে অশিক্ষিত থাকবে না। সবাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। সবার কর্মসংস্থান তৈরী হবে। কোন মানুষ রোগে ভুগে মারা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি এলাকায় ইন্টারনেট সার্ভিস এনে দিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। যা আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে, জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। এই স্যাটালাইটের সুবিধা সকল ক্ষেত্রে আমরা ব্যবহার করতে পারব।

তিনি বলেন, আমরা একটি আধুনিক সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই, যে স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ।

প্রধানমন্ত্রী সুধী সমাবেশে পৌঁছলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সন্তান সাগর দিশা ও ইসরাত জাহান আদরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে বারণ করে নেয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের ঠিকানা আবাসন পল্লীর পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। আবাসনের ঘরগুলো পরিদর্শন শেষে সেখানে নারিকেল গাছের চারা রোপন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকটি পরিবারের সাথে কূশল বিনিময় করেন।

সুধি সমাবেশে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা পেয়েছি। এই সমুদ্র আমরা কাজে লাগাব। পাশাপাশি এই নদীগুলো ড্রেজিং করারও পরিকল্পনা গ্রহন করেছি। শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে প্রতিটা মানুষকে এক উন্নত জীবন দিবে এ্টাই ছিল জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য। প্রতিটা জনপদকে উন্নত করবে। এই জনপদের প্রতিটা মানুষ সুন্দর জীবন পাবে। প্রতিটা গ্রামকে সুন্দরভাবে সাজাবেন। জাতির জনক কোন রাজধানী বা কেন্দ্রভিত্তিক কল্পনা করেনি। একেবারে তৃনমুলের মানুষের যেন উন্নয়ন হয় সেই পরিকল্পনাই তিনি করেছিলেন।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৭৫’র পর ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী উপদেষ্টা এমনকি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বানিয়েছিলেন। তারাই ক্ষমতায় ছিল। সেই পরিবেশে শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আমি দেশ ফিরে সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। আপনাদের এইসব এলাকাও ঘুরেছি। এই দক্ষিণ অঞ্চলটা সবসময় অবহেলিত ছিল। অথচ এখানে যে বিশাল সম্ভাবনা ছিল ক্ষমতা দখলকরীরা কখনোই তা দেখেনি।

দক্ষিনাঞ্চলে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষি যান্ত্রীককরণ করব। এখানে এলমজি টার্মিনাল করে দেব। নৌ ঘাটি নির্মাণ করছি। সেনানিবাস তৈরী করে দিচ্ছি। বিমান বাহিনীর একটি ঘাটি তৈরী করে দিচ্ছি। পরমানু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরী করার জন্য একটা দ্বীপ খুঁজছি।

সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিপহুইপ আসম ফিরোজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ উপদেষ্টা ড. তৌফিক এলাহি চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দিপু , বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সাংসদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।