৫ শতাধিক দরিদ্রের চাল আত্মসাৎ কিশোরগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মাফি মহিউদ্দিন কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির কার্ডের চাল পায়নি নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার।

ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে সুফলভোগী ওই কার্ডের সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশন ও নীলফামারী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত দায়ের করেছে। ওই চালের বাজার মূল্য দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার ওই লিখিত অভিযোগের কপি সাংবাদিকদেরও প্রদান করা হয়।

অভিযোগ মতে চলতি বছরের গত ১২ আগষ্ট পবিত্র ইদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঈদ উপলক্ষে সরকারের পক্ষে বিনামূল্যে উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের ৫ হাজার ৬৮৪ জন সুবিধাভোগী প্রতিজন কার্ডধারীকে ১৫ কেজি করে চাল বিতরনের ৮৫.২৬০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের যোগসাজসে সঠিকভাবে চাল বিতরন না করে ভুয়া মাষ্টাররোল দাখিলের মাধ্যমে এই চাল আত্নসাৎ করে।

এজন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরন না করে তার বাসভবন সংলগ্ন বুড়িরহাট দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ওই চাল বিতরন করেন। কার্ড ধারীদের তালিকায় উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মৃত ব্যাক্তি ,অজ্ঞাত ব্যাক্তি পিতা ও স্বামীর নাম পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারচুপি করেন। দাখিলকৃত মাষ্টারোলের ৫৩৯১ থেকে ৫৪৩০ ক্রমিক নম্বরের সুবিধাভোগীদের নাম ও ঠিকানা ৫৪৩১ থেকে ৫৪৭০ ক্রমিক নম্বরে পুনরায় দেখানো হয়। এ ছাড়া ৪৬৫,৯৭১,৯৭৩ ও ৩২১ ক্রমিক নম্বরে মৃত ব্যাক্তির নাম পাওয়া যায়।

তালিকাভুক্ত ভুয়া কার্ডধারীর ক্রমিক নম্বর ১৩২৩,১৩৩২,১৭৫১,৫৪২৪,৫৪৭৫ ও ৫৪৭৯। এরমধ্যে আবার প্রকৃত পাঁচশতাধিক কার্ডধারীকে চাল দেয়া হয়নি। এমন পাঁচ শতাধিক কার্ডধারীকে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে কথা বলা হলে কার্ডধারী ফরিদুল ইসলাম ক্রমিক নম্বর ৩২২২, রুমাকান্ত ক্রমিক নম্বর ৪৬৬৯, জলিতন ক্রমিক নম্বর ৩২৮৬, আব্দুর কাদের ক্রমিক নম্বর ৩২৪৪ এবং ফেলোবেওয়া ক্রমিক নম্বর ৪৬৭৫ বলেন অভিযোগ করে জানায় তার এই চাল উত্তোলনের জন্য গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের তালিকায় নাম নেই বলে তিনি চাল দিবেননা। ফলে আমাদের বাড়ি ফিরে আসতে হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারী এই চাল বিতরনের সময় ট্যাগ কর্মকতার্ হিসাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকতার্ মোতাহার হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

কিন্তু উক্ত ট্যাগ কর্মকতার্ চাল বিতরনের সময় তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। ফলে ইউপি চেয়ারম্যান ৫ শতাধিক কার্ডের সাড়ে ৭ হাজার কেজি চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

এ ব্যাপারে চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, আমি প্রকৃত মাষ্টাররোলের তালিকা অনুযায়ী ৫ হাজার ৬ শ ব্যাক্তির মাঝে পবিত্র ইদুল আজহার চাল বিতরন করেছি। চাল বিতরনে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সাথে ছবি আছে