৬৮ হাজার কোটি টাকার সহায়তা অব্যাহত থাকবে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩২:পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৯
সংগৃহীত ছবি

পদ্মা সেতু, বুলেট ও হাইস্পিড ট্রেনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহে অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নতুন সরকারের মেয়াদে ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের (৬৮ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই অর্থ অগ্রাধিকার প্রকল্পে ব্যয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে এডিবি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে নিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থাটি। ঢাকায় ছুটিতে এসে সম্প্রতি দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এডিবির বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম অংশীদার এডিবি। এই সংস্থা থেকে বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ সহায়তা নেয়া ও পরিশোধে বাংলাদেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বিশ্বের ঋণ গ্রহীতা অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ভালো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয় বলে জানালেন মাহবুব আহমেদ।

আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে ৬৮ হাজার কোটি টাকা সহায়তার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। এ অর্থ অবকাঠামো, দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ, পরিবহনে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ, কৃষিতে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ, গ্রামীণ উন্নয়নে ১৩ শতাংশ, শিক্ষায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন খাতে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠন করেছে। এর আগে টানা দুই মেয়াদে এ সরকারই ক্ষমতায় ছিল। তবে আন্তর্জাতিক এ সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহবুব আহমেদ। জানা গেছে, ঢাকায় ছুটিকালে এডিবির নির্বাহী পরিচালক নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। তবে এটি তার কোনো আনুষ্ঠানিক অ্যাসাইনমেন্ট নয়।

মাহবুব আহমেদ বলেন, রেলওয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা অনুযায়ী বুলেট ট্রেন, হাইস্পিড ট্রেন চালুর বিষয়টি মাথায় রেখে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা থাকলে সেটি নোট নেয়া হবে। এছাড়া এ সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প পদ্মা সেতু। অর্থায়নের বিষয় নিয়ে কথা হবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, এডিবি বাংলাদেশকে অর্থায়ন করছে। এ সহায়তা যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যয় হয় সেটি নিশ্চিত করা হবে। কেননা এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হলে আরও সহায়তা পাওয়া সহজ হবে। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এডিবির মনোভাব জানতে চাইলে মাহবুব আহমেদ বলেন, এটি ইতিবাচক। নির্বাচন নিয়ে এডিবির সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, আমার ছুটি পড়ে গেছে বাংলাদেশের নির্বাচনের সময়। যে কারণে দেশে চলে আসি। কিন্তু নির্বাচনের পরও এ নিয়ে এডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের মনোভাব ইতিবাচক এবং নির্বাচন নিয়ে তারা খুশি। তারা মনে করছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকবেই। এডিবি মনে করে, বর্তমান সরকারই এডিবির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ফলে এ সরকার থাকলে তাদের উন্নয়ন কাজ চালাতে সমস্যা হবে না।

বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে এডিবি বিকল্প এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ দেশের অবস্থান খুবই ভালো। বাংলাদেশ সম্পর্কে একদিকে ইতিবাচক, অপরদিকে তারা অত্যন্ত আগ্রহী। এডিবি এখন বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় দেশ মনে করে। অর্থনীতির বড় দিকগুলোর বাস্তবায়নে এডিবির ঋণের সঠিক ব্যবহার নিয়ে এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আউট লুকে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। এডিবির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে উদাহরণ বিশেষ করে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরছেন। কারণ অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঋণ ব্যবহার করেছে এবং সাফল্যের সঙ্গে এডিবির রিসোর্স ব্যবহার করতে পারছে। যে কারণে বাংলাদেশকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এডিবি আগ্রহী। এডিবি মনে করে, উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে দেশের জনগণ। অনেক দেশ লোন নিয়েও খরচ করতে পারে না।

উল্লেখ্য, এডিবির বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে মাহবুব আহমেদ গত ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুগান্তর