‘৮০ ভাগ রোহিঙ্গাই ডব্লিউএফপির খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল’

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৪০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থী রোহিঙ্গাদের ৮০ শতাংশই জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন সংস্থাটি। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা করার জন্য ডব্লিউএফপিকে অফার্থিকভাবে সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সম্প্রতি সংস্থাটিকে আরো দুই মিলিয়ন ইউরো সহযোগিতা করেছে ইইউ। আর এ অর্থায়নকে স্বাগত জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ইইউয়ের নতুন এ অর্থায়ন রোহিঙ্গা শিশু ও মায়েদের উচ্চমাত্রার পুষ্টিহীনতা মোকাবিলা এবং বর্ষা মৌসুমে জীবন রক্ষাকারী খাদ্যসহায়তা চলমাল রাখার মধ্য দিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে ডব্লিউএফপিকে সহযোগিতা করবে।

ডব্লিউএফপি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর রিচার্ড রিগ্যান বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশের দুই বছর অতিক্রম হলেও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর পরিস্থিতি এখনও নাজুক। প্রায় ১ মিলিয়ন শরণার্থীর ৮০ শতাংশ মানুষ ডব্লিউএফপির খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মিত অর্থায়ন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও নারীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আমাদের সাহায্য করবে। এ তহবিলের কিছু অংশ শিবিরগুলোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এবং ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির। চলতি বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া শিবিরগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইইউ এ নতুন তহবিলের মাধ্যমে ডব্লিউএফপি দুর্যোগকালীন শরণার্থী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সক্ষম হবে বলেও জানানো হয়।

২০১৮ সালে ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি প্রয়োজনে ডব্লিউএফপিকে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১২ মিলিয়ন ইউরো আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিল, যা ডব্লিউএফপির অভ্যন্তরীণ খাদ্য বিতরণ পদ্ধতিকে ইলেকট্রনিক ভাউচার পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে প্রায় অর্ধেক শরণার্থীই ভাউচারের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা পাচ্ছে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে সব শরণার্থী এ পদ্ধতিতে সহায়তা পাবে।

প্রিপেইড ডব্লিউএফপি অ্যাসিসটেন্ট কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো শরণার্থী শিবিরে নির্ধারিত দোকানগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার নিজেদের পছন্দ মতো বেছে নিতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোস স্টেলিয়ানডেস বলেন, দুই বছর আগে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। যদিও আমাদের চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ নয়, কেননা লাখ লাখ রোহিঙ্গা বেঁচে আছে কেবল মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দেয়া এ সহায়তা সংস্থাটির অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চলমান প্রতিশ্রুতি রক্ষার দৃষ্টান্ত। আমরা তাদের নিশ্চিত করতে চাই যে, আমাদের সহযোগী ডব্লিউএফপির মাধ্যমে তাদের জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা বহাল থাকবে এবং এর মধ্য দিয়ে বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে জাতিসংঘ খাদ্য কর্মসূচির অন্যতম প্রধান দাতা সংস্থা, যারা ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪১ মিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ সরবারহ করেছে। এ নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তা ডব্লিউএফপিকে সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা দিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে। সংস্থাটি পৃথিবীর ৮০টিরও বেশি দেশে কর্মসূচি পরিচালনার মধ্য দিয়ে সংঘাতের শিকার এবং বিপর্যস্তদের খাদ্য সহায়তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করে চলছে।